শনিবার, ২৪ মে ২০২৫, ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন
মেহেদী হাসান হৃদয়
গত ৫/৮/২০২৪ চাঁদপুর জেলার সড়ক ও জনপদ (সওজ) কার্যালয়ে সম্প্রতি সাধারণ জনগণের দ্বারা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাটি পুরো জেলায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যালয়ে নানা ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। জনরোষের কারণ হিসেবে মূলত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ওয়াছিউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে উঠা চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির অভিযোগকে দায়ী করা হচ্ছে।
ঘটনার পেছনের কারণ
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার অভাব দীর্ঘদিন ধরে চলছে। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ওয়াছিউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বরাদ্দকৃত প্রকল্প তহবিলের একটি বড় অংশ আত্মসাৎ করেছেন তাহার সহযোগী এছ ও মুস্তাফিজুর রহমান কে নিয়ে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং অসম্পূর্ণ কাজের প্রমাণও পাওয়া গেছে। ফলে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে স্থানীয় জনগণের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
সরেজমিনে পাওয়া তথ্য
অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর বিষয়টি তদন্ত করতে গেলে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে।
নিম্নমানের কাজ: অনেক রাস্তায় নির্মাণ কাজ শুরু হলেও তা সম্পূর্ণ হয়নি। নির্মাণের মান ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের, যা জনগণের জন্য বিপজ্জনক।
ঘুষ ও দুর্নীতি: ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠে আসে।
প্রকল্পে অনিয়ম: বরাদ্দকৃত বাজেটের একটি বড় অংশ যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি।
জনগণের ক্ষোভ: দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যার কোনো সমাধান না হওয়ায় জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়, যা শেষ পর্যন্ত রাগে ফেটে পড়ে।
জনগণের প্রতিক্রিয়া
সাধারণ জনগণের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা বারবার এই দুর্নীতির বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পায়নি। ফলে তারা নিজেদের অসহায় মনে করে এবং চরমপন্থা অবলম্বন করতে বাধ্য হয়।
নিরাপত্তা ও তদন্তের অগ্রগতি
অগ্নিসংযোগের পর প্রশাসন ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং তদন্ত শুরু করে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকৌশলী ওয়াছিউদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে দুর্নীতির কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে।
চাঁদপুর সওজ কার্যালয়ের এই ঘটনা শুধু একটি আলাদা ঘটনা নয়; এটি সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির প্রতিচ্ছবি। এই ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো যায়। একইসঙ্গে দায়ীদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।